ওনারা দুইজনে সৈয়দ বংশের আওলাদে রাসূল। এ কথা আমি বললে কি ভুল হবে?
সাইন বোর্ডে আওলাদে রাসূল লিখা নেই তবে যারা সব সময় আওলাদে রাসূল ও সৈয়দ নিয়ে একটা তর্ক করেন তাদের জন্য বলবো।
বংশ একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তবে আশেকে রাসূল ও নূরে ইলাহিতে ফানা ছাড়া আল্লাহর নিকট কোন কদর নেই।
এখন প্রশ্ন আসবেন ওনি আমার কে হোন?
ওনি আমার বড় নানা ভাই।আমার নানার আপন জেটা।
একই রক্তে সিলসিলা।
ঐদিন বলেছিলাম না শাজারা নেই।
হয়ত আল্লাহ শাজারা মিলিয়ে দিবেন।
আমার নানা বাড়ীর কবরস্থান এ হযরত মৌলানা আবদুল কুদ্দুস নকশবন্দী (রহ)এর মাজারের পাশে আমার নানার বাবা,নানা,নানী,মামাদের কবর রয়েছে।
আজকে আমি সাহস করে বড় নানার মাজারের সামনে বসি।
ওখানে মহিলারা যায় না।তাই আগে আসলে রাস্তা বন্ধ ছিল এখন খোলা।তিন বার জিয়ারত করি।
ওনার রওজাটা মাঠির ঘর ওনার হুকুম উনারা কোন আলিসান চান না।
মাজারের ফটকে ধুলা আছে তা ও পরিস্কার মনে হয় কেউ ফুক দিয়ে পরিস্কার করেছেন।।
আমি দেখলাম একটা পাতা ও নেই অথচ ২ ইঞ্চি দুরে মাটির জমিন আর সব ঘাস পাতা মাটি।
আমি ওনাকে একটা চমৎকার দোয়া করে বসলাম।
তিন বার জিয়ারত করলাম।
প্রথম যখন যায় তখন অনেক দূর থেকে দাড়িয়ে।
মন ভরেনি। পরে আবার গেলাম।
সেখানে মন ভরে মিলাদ কিয়াম করলাম।
তখনো সাইনবোর্ডে নজর পড়েনি।কান্না করি৷
টাকা ছিল না সাথে ব্যাগ নেই। পড়ে দেখি মেজো ভাই আসলো আমার মোনাজাতে শরিক হল। আমি তাকে বললাম ভাইয়া টাকা আছে?
২১ টাকা দান বাক্সে হাদিয়া দিয়ে সেখানে বসে পড়লাম
গায়ে একটু ও ময়লা লাগেনি।কলবি জিয়ারত করলাম।
কি কি সব বলে দিলাম। মনে ছিল অপমানের ক্ষত গুলো।
মিথ্যা তামশা ষড়যন্ত্রের আঘাত গুলো।বিশ্বাসঘাতকার স্মৃতি গুলো। বললাম ইয়া আল্লাহ রক্তে তো আমার ভেজাল ছিল না তাহলে আমার অপরাধটা কি?
একটা খুশবু আসলো।
বলে রাখি ওখানে কেউ আতর দেয়না।মানুষ ওখানে এত পরিচর্যা করেনা। ওলিদের মাজার থেকে যে গোলাপের খুশবুটা আসে সেটা খুব সুন্দর ও সুঘ্রাণ একই রকম।
আমি খুশি হলাম।একটা শান্তি লাগে কবরস্থানে বসলে।
মানুষ ভয় করে আমার ভয় লাগেনা।
পরে চলে আসি। তবে আসার সময় আমাকে ওনি আবার নিলেন।আমার মামাত বোন ছোট মেয়ে সে হুট করে এসে বলতেছে আপু চলে যাবে?
বললাম হে রাস্তায় সে আমাকে বলল আপু চল আবার কবরস্থানে যাই।গেলাম আমি আর আমার মাসুম বোনটা দাড়িয়ে আবার ও জিয়ারত করলাম।আবার ও মিলাদ কিয়াম করলাম।কবর বাসীর জন্য ইসালে সোয়াব প্রেরণ করলাম।(আমিন)এই লিখাটা আমি লেখতাম না।
আওলাদে রাসূল এর বংশধরের গায়ে হাত তুললে কেমন বিচার হয়?আওলাদের ওলির গায়ে হাত তুললে কেমন বিচার হয়?আর একটা সাধারণ মানুষ এর গায়ে হাত তুললে কেমন বিচার হয়?রাস্তার ফকিরের গায়ে হাত তুললে কেমন বিচার হয়?আল্লাহর বিচার কিন্তু সমান।।
কাউকে অন্যায় করে মারলে জুলুম করলে তার বিচার আল্লাহ করবেন।আওলাদের রাসূল হোক বা সাধারণ মানুষ?
তবে আমাদের সমাজে আমরা মানুষ কে জাত দেখে সম্মান করি তাই না?কিন্তু কেন এই ভেদাভেদ?
তবে আমি সৌভাগ্য বান আমার সোসাল মিডিয়াতে যারা আমার পরিচিত তাদের ৯০% আমারকে অতিসাধারণ একটা বোকা সরল মনের মানুষ মনে করে ভালোবাসে সম্মান করেন। ১০ % কি হিসাব করে জানিনা৷
তবে আর কিছু আছে আমাকে প্রচন্ড ঘৃনা করে।
কারণ আমি নাকি আওলাদের ওলি না। তাই আমার সূফিবাদ বা আমার আধ্যাত্নিক জগত ভুল বা ভন্ড।
আমি আমার জীবনে কলবি জিকির করি মোজাদ্দেদীয়া তরিকার নিয়মে তখন আমি আমার বড় নানার কথা জানতাম না।
শুধু জানতাম বংশে ওলি আছেন।
আম্মুরা বলতো।
নানু বাড়ি গেলে জিয়ারত করতেন।
তবে আজকে আমি আমার জীবনের পুরা হিসাবটা পেয়ে গেলাম।
কোথায় আমার শুরু আর কোথায় আমার শেষ।
বিভিন্ন তরিকার নেসবত গ্রহনের বিষয়টি নিয়ে একটা কিতাব লিখতে হবে।মুফতি দিয়ে নিজেকে প্রমাণ ও করবো ইনশাআল্লাহ।
কারণ সমাজে দলিল প্রমাণ ছাড়া ৯০% সম্মান করেনা ঐ জুলুসের সাথে।আমি মাফ করি না তাদের যারা আমার জাতে আঘাত করে।




